অাজ উপকূলের ভয়াল ২৯ এপ্রিল

মোহাম্মদ সাখাওয়াত উল্ল্যাহঃ “একানব্বই বন্যার সময় যে অগনিত মানুষ মারা গেছেন। ঐ দিকে কাদিরার বাপের ঘর হইতে এই পর্যন্ত আমি ৪২ জন লোক দাফন করেছি। আমি তখন রেডক্রিসেন্টের টীম লিডার। ১৬ নম্বর টীম লিডার। হক সাহেব (ফজলুল হক সাহেব) আমার ওস্তাদ। আমার সাবাশ ছিলো। আমার কাছে লাইট ছিলো, মাইক ছিলো আমি ঘুর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ঘোষণা দিতাম। হক সাহেব, রফিক সাহেব এসে আমাদের মনিটরিং করতেন।
দুর্ভাগ্য একানব্বই এর পর অনেক মানুষ মারা গেছেন এই দেশে। আমার সাথে আলী আহমদ ও রফিকরে নিয়ে আমরা ৪২ জন লোক দাফন করেছি। বন্যার ৮ দিন পর্যন্ত এই লাশ দাফন করেছি। হক সাহেব দাফনের কাপড়, ব্লিচিং পাউডার দিয়েছেন। আট দিনের দিন শরীরে আর মানায়নি আমি ক্লান্ত হয়ে গেছিলাম। আট দিনের পর আর লাশ দাফন করতে পারিনি। তখন অনেক লাশ দুর্গন্ধ হয়ে গেছে। “
কথাগুলো বলছিলেন নোয়াখালী সুবর্ণচরের প্রান্তিক স্বেচ্ছাসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজ আহমদ।

১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম কক্সবাজার উপকূলের মানুষের জন্য ছিল এক ভয়ানক রাত। ঘণ্টায় ২৪০ কিমি গতিবেগে বাতাস আর প্রায় ২০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছ্বাস নিয়ে রাত প্রায় বারোটা নাগাদ উপকূলে আছড়ে পড়ে হারিকেনের শক্তিসম্পন্ন প্রবল এক ঘূর্ণিঝড়। এই প্রবল ঘূর্ণিঝড় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নেয়।

এইদিনে প্রাণ হারানো সকল মানুষের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। কৃতজ্ঞতা জানাই জনাব ফয়েজ আহমদের মতো অকুতোভয় স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি। গভীর শ্রদ্ধা জানাই সে সময়ে প্রাণ হারানো সেই সকল স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি যাঁরা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় দিতে গিয়ে জীবন দান করেছেন।

বন্যার কথা শুনতে গিয়ে আমি উপলব্ধি করি আমাদের অনেক গাছ রোপণ করতে হবে।

One_year_100000tree.

Subscribe
Notify of

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
error: নিউজ এবং ছবি কপি করা কপিরাইট আইন ২০০০, অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x