সুবর্ণচরের সাম্প্রতিক সময়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি

রতন দেব নাথঃ গত দুইদিন ধরে সুবর্ণচরের একটি ঘটনা ফেইসবুকে সাড়া জাগাচ্ছে। সত্যি কথা বলতে যে ঘটনাকে নিয়ে দুইদিন ফেইসবুক সয়লাব আসলে এটা স্থানীয় একটা ঘটনা ছাড়া কিছুই না। আমরাই আলোচনা সমালোচনা করে ওদের জাতে তুলছি না ? আজ খাসের হাটে তথা সুবর্ণচরে একজন কাদের মিয়া কাকার অভাব মনে হচ্ছে। কাছাকাছি একটা ঘটনা বলছি। ১৯৯০ সালের ঘটনা। আমি খাসেরহাট হাইস্কুলে পড়ি। সময়টা ছিল রমজানের ঈদের সপ্তাহ খানেক আগের। আমার কাকা টেইলার আর ঐ সময় আমাদের দোকানে বেশ কাজের চাপ থাকায় আমি বা কাকা অনেক রাতেই বাড়ি যেতাম। একরাতে কাকা তিনটার দিকে বাড়ি যাচ্ছিলেন একাকী। বর্তমান সৈকত কলেজ এর দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী বাড়িটা ছিলো মোহছেনার বাপের বাড়ি। ঐ সময় স্থানীয় চারজন যুবক ওখানে ডাব খাচ্ছিলো। কাকা টর্চ লাইটের আলো ওইদিকে করে জিজ্ঞেস করলো তোরা কি করছিস। বলল ডাব খাচ্ছি, খাবা নাকি ? কাকা শুধু বলেছিল আমি চোরা ডাব খাই না। ঘটনা এখানেই শেষ হয়ে গেছে, বা শেষ হতে পারতো। কাকা বাড়িতে চলে গিয়েছেন। পরদিন বেলা ১০ টার দিকে আমি, কাকা,দোকানের কারিগররা দোকানে কাজ করছি এবং আতাউল্ল্যা কাকা আমাদের দোকানে বসে আছেন। আাতাউল্ল্যা কাকা হলো আমার কাকার বাল্যকালের অকৃত্রিম বন্ধু ও হালিম মুন্সী কাকার ভাই।ওই সময়ই রাত্রিকালের চার যুবকের একজন এসে কাকাকে উস্কানিমূলক কিছু কথা বলছিল। কাকা কিছুই বলছিল না। তাতে ও ক্ষিপ্ত হয়ে কাকার দিকে এগিয়ে আসতেই আতাউল্ল্যা কাকা সামনে এসে দাঁড়ায় এবং প্রতিহত করতে গিয়ে যুবকের একটা দাঁত ভেংগে ও যায়। ১০ মিনিট পর ওরা পুরো গ্যাং আসে লাঠিসোটা নিয়ে আমাদের দোকান আক্রমণ করতে। ততক্ষণে হালিমমুন্সী কাকাও স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা ওদের ঘিরে ফেলে আচ্ছামত ধোলাই দেয়।বাজার কমিটির সেক্রেটারি ছিলেন প্রয়াত কাদের মিয়া কাকা। পরে ঐ দিনই রাতে বিচার হয় ওনার হোটেলে। চার যুবকের সবাইকে বেত্রাঘাত এর ও মাথা ন্যাড়া করার আদেশ দেয়া হয় ও তাৎক্ষণিক কার্যকর করা হয়। আমরা সংখ্যালঘু ছিলাম সেই হিসেব করা হয়নি, অন্যায়কারীর বিচার হয়েছিল। কাদের মিয়া কাকার ভাষ্য ছিল আমার বাজারের একজন ব্যবসায়ীকে অপমান করা হয়েছে এটা মেনে নেয়া যাবে না। এখন যেটা ঘটেছে এটা জন্য বাজার কমিটি ছিল, থানা পর্যন্ত দরকার ছিল না। এটা কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা না। খাসের হাটে অনেক হিন্দু ব্যবসায়ী আছে। আমার মনে হয় না কোনো ব্যবসায়ী হিন্দু বলে অত্যাচারিত বা নির্যাতিত হয়েছে। ১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদকে কেন্দ্র করে আমাদের পাশ্ববর্তী এলাকার অনেক হিন্দুরা আমাদের এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল। আজ যারা এই ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক বলছে তারা ৯২ সালে কোথায় ছিল ? সবিনয়ে বলছি সুবর্ণচরে কোন সাম্প্রদায়িকতা নেই। হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে। কারো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় না। কলেজ জীবনে আমি ও ছাত্র – যুব- ঐক্য পরিষদের একটা বিশেষ পদের দায়িত্বে ছিলাম। এই সংগঠনটিকে বিতর্কিত না করে ভালো ভাবে সামনে এগিয়ে নিয়ে যান। সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলতে শিখুন, তাতেই নিজের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটবে। সবাইকে ধন্যবাদ, সবার মঙ্গল কামনা করছি। শুভরাত্রি।

লিখেছেনঃ

রতন দেব নাথ,সমাজসেবক, চরবাটা, সুবর্ণচর,নোয়াখালী

Subscribe
Notify of

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments
error: নিউজ এবং ছবি কপি করা কপিরাইট আইন ২০০০, অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x